খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ, ১৪৩৩

মহানবী (সা.) যেভাবে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
মহানবী (সা.) যেভাবে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ

 

মুহাম্মদ (সা.) এমন একসময় পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন, যখন পৃথিবী ঐশী আলো ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ফলে পার্থিব জীবনের সব আয়োজন বিদ্যমান থাকলেও সাম্য, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব ও কল্যাণকামিতার মতো গুণাবলি হারিয়ে গিয়েছিল।

মানুষরূপী মানুষ থাকলেও পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব ছিল না, মানুষ মানুষের কাছে নিরাপদ ছিল না। ঐতিহাসিকরা এই সময়কে আইয়ামে জাহিলিয়্যাত বা অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

 

মহানবী (সা.) তখন মানবজাতির জন্য মহাত্রাতা হিসেবে আগমন করেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের প্রতি শুধু রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি। ’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১০৭)

উল্লিখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, শুধু নবী হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনই নয়, বরং সত্ত্বাগতভাবে তিনি নিজেও বিশ্বজগতের জন্য রহমত ছিলেন।

রহমত শব্দের আভিধানিক অর্থ দয়া ও অনুগ্রহ।

পরিভাষায় রহমত বলা হয়, অন্যের প্রতি অন্তরের এমন মায়া, ভালোবাসা ও ভাব, যা অনুগ্রহ করতে উৎসাহিত করে। সুতরাং নবীজি (সা.)-এর রহমত হওয়ার অর্থ হলো বিশ্বজগতের প্রতি তাঁর কল্যাণকামিতা এবং সৃষ্টির প্রতি তাঁর দয়া ও মমতা। পাশাপাশি আয়াতের আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, বিশ্বজগতের কল্যাণ সাধনের জন্য আল্লাহ নবীজি (সা.)-কে প্রেরণ করে জগতের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন।

ওপরের আলোচনা থেকে জানা গেল, নবীজি (সা.) তাঁর জাত বা সত্ত্বা ও নবুয়ত উভয় বিচারে বিশ্বজগতের জন্য অনুগ্রহ ছিলেন।

মহানবী (সা.)-এর সত্ত্বাগত রহমত হওয়ার প্রমাণ মেলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও আচরণ থেকে। তাহলো মানুষের প্রতি তাঁর মমতা, অসহায় ও দুর্বলদের সাহায্য করা, আত্মীয়তার সম্পর্ককে দৃঢ় করা, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচার করা, স্ত্রী ও সহচরদের সঙ্গে কোমল আচরণ করা, আমানত রক্ষা করা ইত্যাদি। নবীজি (সা.) সত্ত্বাগতভাবেই এসব মানবিক গুণের অধিকারী ছিলেন। নবুয়ত লাভের আগেই সমাজের লোকেরা তাঁর এমন গুণাবলির সাক্ষ্য দিয়েছিল। যেমন—তিনি মক্কার লোকদের কাছে আল-আমিন (বিশ্বস্ত) ও সাদিক (সত্যবাদী) হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তিনি সামাজিক অন্যায় প্রতিরোধ করতে হিলফুল ফুজুল নামক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন। নবুয়ত লাভের পর যখন নবীজি (সা.) ভয় পেয়েছিলেন, তখন খাদিজা (রা.) তাঁর এসব গুণের কথা উল্লেখ করে অভয় দেন। প্রথম ওহি নাজিলের পর তিনি খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.)-এর কাছে এসে বললেন, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত করো, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত করো। তখন খাদিজা (রা.) ঘটনাবৃত্তান্ত জেনে বললেন, ‘আল্লাহর কসম, কখনোই নয়। আল্লাহ আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায়-দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। ’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩)

পবিত্র কোরআনেও নবীজি (সা.)-এর দয়া, মায়া ও কোমল হৃদয়ের প্রশংসা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর দয়ায় তুমি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলে; যদি তুমি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

নবুয়ত লাভের পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দয়া ও অনুগ্রহের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ফলে তায়েফে তিনি রক্তাক্ত হওয়ার পরও তায়েফবাসীর সুপথপ্রাপ্তির দোয়া করেন এবং আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। একইভাবে যে মক্কাবাসী সীমাহীন জুলুম-অত্যাচার করে তাঁকে মাতৃভূমি ত্যাগে বাধ্য করেছে, মক্কা বিজয়ের পর তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়ে বলেন, আজ কোনো প্রতিশোধ নয়।

নবী হিসেবে মানবজাতির প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুগ্রহ অসংখ্য ও অগণিত। যার বিবরণ সংক্ষপ্তি এই লেখায় দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর সমগ্র জীবন, তাঁর মহান আদর্শ ও শিক্ষাই সাক্ষ্য দেয় নবীজি (সা.) বিশ্বজগতের জন্য অনুগ্রহ ছিলেন। বিদায় হজের সময় দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে যার সামান্য ধারণা পাওয়া যায়। তিনি তাতে সব বৈষম্য বিলোপের ঘোষণা দিয়ে বলেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের রব একজন। তোমাদের আদি পিতা একজন। প্রত্যেকেই আদমের সন্তান। আর আদম মাটির তৈরি। আল্লাহ তাআলা পারস্পরিক পরিচিতির সুবিধার্থে বিভিন্ন সমাজ ও গোত্রে তোমাদের বিভক্ত করেছেন। আরবের ওপর যেমন অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তেমনি অনারবের ওপর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই আরবের। একইভাবে শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের আর কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার একমাত্র ভিত্তি হলো তাকওয়া।

তিনি মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ঘোষণা করে বলেন, হে লোক সকল! তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্মান, তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্য চিরতরে হারাম করা হলো যেমন আজকের এই দিন, এই মাস, এই শহরে রক্তপাত করা হারাম বা নিষিদ্ধ। তিনি নিপীড়িত নারী সমাজকে মুক্তির আহবান জানিয়ে বলেন, হে মানবমণ্ডলী! নারীদের প্রতি নির্মম ব্যবহার করার সময় তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা তাদের আল্লাহর জমিনে গ্রহণ করেছ এবং তাঁরই কালেমার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে তোমাদের দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জেনে রেখো, তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার আছে, তেমনি তোমাদের ওপর তাদেরও অধিকার রয়েছে। সুতরাং তাদের সার্বিক কল্যাণ সাধনের বিষয়ে তোমরা আমার অসিয়ত (অন্তিম উপদেশ) গ্রহণ করো।

দাস-দাসী ও অধীনদের ব্যাপারে বলেন, তোমরা তোমাদের অধীনদের সম্পর্কে সতর্ক হও। তারা তোমাদের ভাই। তোমরা নিজেরা যা খাও তা তাদের খাওয়াবে। তোমরা নিজেরা যা পরিধান করো তা তাদের পরিধান করাবে। তাদের ওপর সাধ্যাতিরিক্ত শ্রমের বোঝা চাপিয়ে দেবে না। যদি কোনো কারণে চাপিয়ে দিতে হয়, তবে তুমিও তাতে অংশীদার হও। মহানবী (সা.) আরো বলেন, সাবধান! ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ও সংঘাতের পথ বেছে নিয়ো না। এই বাড়াবাড়ির ফলেই অতীতে বহু জাতি ধ্বংস হয়েছে।

এভাবেই মহানবী (সা.) মানবজাতির জন্য ত্রাণকর্তার ভূমিকায় আবির্ভূত হন এবং তিনি মানুষকে চির শান্তির পথ দেখিয়ে যান। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, তোমরা দিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে ছিলে, আল্লাহ তা থেকে তোমাদের রক্ষা করেছেন। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)

আল্লাহ সবাইকে মুহাম্মদ (সা.)-এর সত্যিকার অনুসারী হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

ফেব্রুয়ারিতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে : প্রধান উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
ফেব্রুয়ারিতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে : প্রধান উপদেষ্টা

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতের জন্য মনোনীত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।

 

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বৈঠকে সার্জিও গোর প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা, সার্ক পুনরুজ্জীবন, রোহিঙ্গা সংকট এবং ঢাকাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত ভ্রান্ত তথ্য প্রচারসহ দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজারে বসবাসরত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা চান। এ সময় মার্কিন কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা সার্জিও গোরকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

দগ্ধ ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের দেখে গেলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
দগ্ধ ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের দেখে গেলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গাজীপুরের টঙ্গীতে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহযোগিতা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

 

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি দুর্ঘটনায় দগ্ধ রোগীদের দেখতে যান তিনি।

এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দগ্ধদের যত ধরনের সাপোর্ট প্রয়োজন, সরকারের পক্ষ থেকে তা নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হবে না।

কেমিক্যাল গোডাউন অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল দুর্ঘটনার পর সেসব গোডাউন মুন্সিগঞ্জের দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টঙ্গীর ঘটনাটি একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা। আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, বর্তমানে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য ভর্তি আছেন। তাদের শরীরের ৪০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হওয়ায় সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দগ্ধ রোগীদের দেশের বাইরে নিলে ভালোও হতে পারে, আবার ঝুঁকিও থাকতে পারে। এজন্য বিষয়টি সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে টঙ্গীর একই ঘটনায় দগ্ধ আলআমিন হোসেন বাবু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নিউইয়র্কে ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: মুশফিকুল আনসারী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্কে ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: মুশফিকুল আনসারী

ঢাকা: মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনৈতিক সফর সঙ্গীদের ওপর পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে তিনি এ কথা লিখেছেন।

 

মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন,
‘নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জুলাই আন্দোলনের এক বীর সেনানী এবং একজন মহিলা রাজনৈতিক নেত্রীর উপর জঙ্গী কায়দায় হামলে পড়া, নিশ্চয়ই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন আমলে নিবে।

তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপর যে নিন্দনীয় আক্রমণ চালানো হয়েছে, তা আমাকে ভীষণভাবে ব্যথিত করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের এই সময়টা নিরাপত্তার দিক থেকে খুবই তাৎপর্যপুর্ন। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে আসা বাংলাদেশের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় পতিত স্বৈরাচারের সমর্থকদের হাতে আক্রমনের শিকার হয়েছেন। আমি নিশ্চিত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমার সহকর্মীরা এইসব ব্যপার সামনে রেখেই তাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। কিন্তু আমাকে অনেকে জানতে চেয়েছেন যে, বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিলো কী না?

আমরা জাতি হিসেবে লড়াই করেছি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য, আর আজ এমন সময়ে এসে যদি আমাদের নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়-তাহলে সেটি কেবল অবহেলা নয়, ইতিহাসের কাছে এক অমার্জনীয় ব্যর্থতা।

এই হামলা শুধু ব্যক্তির উপর নয়, এটি বাংলাদেশের মর্যাদা, আমাদের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার এবং একটি নতুন পথচলার উপরও হামলা। ’

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিনিধি দলের সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেছেন বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতাকর্মীরা।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তার সফরসঙ্গী হয়েছেন ছয়জন রাজনৈতিক নেতা। তারা হলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ড. নকিবুর রহমান তারেক, যিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকেই প্রতিনিধিদলে যোগ দেবেন।